Select Page

সুইডেনের ট্যুরিস্ট ভিসা

May 8, 2021 | ভিসা ব্যবস্থা

বর্তমানে করোনা ভাইরাসের জন্য সুইডেনের ট্যুরিস্ট ভিসা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাই এই ভিসা আবেদন করা উচিত না , করলেও ভিসা দিবে না।

সুইডেনের অনেক ছাত্র ছাত্রী তাদের বাবা মা অথবা নিকট আত্মীয় কে সুইডেনে বেড়াতে নিয়ে আসতে চান ,,,তাদের জন্য এই লেখা।
সুইডেনের ট্যুরিস্ট ভিসাপ্রথমেই কাজের কথা ,,

মূল জিনিস কি কি লাগবে ?

আসলে ৩ টি জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ

i) পাসপোর্ট (মেয়াদ থাকতে হবে কমপক্ষে ৬ মাস)

ii) ব্যাংকে উপযুক্ত পরিমান টাকা।

iii) ভ্রমন বীমা বা ট্রাভেল ইন্সুরেন্স।

এবারে একটু বিস্তারিত আলোচনা

১. সুইডেনের ট্যুরিস্ট ভিসা আপনি বাংলাদেশ থেকেই পেতে পারেন। অনলাইনে করতে পারবেন। এছাড়া ঢাকায় সরাসরি এম্বেসী অথবা এই ঠিকানায় আবেদন করতে হবে।
VFS GLOBAL Sweden Visa Application Centre, Delta Life Tower, Plot 37, Road 90, 4th Floor, Gulshan North, Gulshan-2, Dhaka-1212, Sunday – Thursday, 09.00 – 14.00, without prior appointment.
নতুন নিয়ম অনুযায়ী আপনি ভ্রমন করার ৬ মাস আগে এই ভিসা আবেদন করতে পারবেন।

ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন ফর্ম :https://www.migrationsverket.se/download/18.5e83388f141c129ba6312919/1485556220819/blvisa_119031_en.pdf

ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন ফর্ম ফিলাপের নিয়মাবলীhttps://www.vfsglobal.se/Bangladesh/pdf/Application-for-Schengen-Visa.pdf

২. সাধারনত এই ভিসার মেয়াদ থাকে সর্বোচ্চ ৩ মাস। তবে আপনি বছর খানেকের সময় পেতে পারেন। মনেকরুন আপনাকে ১ জানুয়ারি 2022 থেকে ৩১ ডিসেম্বর 2022 পর্যন্ত ভিসা দিলো। কিন্তু লিখে দিলো ৯০ দিন। অর্থাৎ 2022 সালের যেকোনো ৯০ দিন আপনি সুইডেনে বা ইউরোপে থাকতে পারবেন।

৩. সিঙ্গেল এন্ট্রি অথবা মাল্টিপল এন্ট্রি দিতে পারে। ভিসা আবেদন করার সময় মাল্টিপল এন্ট্রি দিবেন।

৪. সাধারনত সুইডেনে ট্যুরিস্ট ভিসা হিসেবে “সানজেন ভিসা” দিয়ে থাকে। ফলে আপনি এই ভিসাতে ইউরোপের প্রায় সবগুলি দেশ ভ্রমন করতে পারবেন। কিছু ব্যতিক্রম বাদে।

৫. ব্যাংকে কত টাকা থাকতে হবে :একটি আনুমানিক হিসাব। সুইডেনের আইন অনুযায়ী আপনার দৈনিক খরচ ৪৫০ সুইডিশ ক্রোনোর , মানে বাংলাদেশী ৪ হাজার টাকার মত। অর্থাৎ ৯০ দিনের জন্য ৩.৬ লক্ষ টাকা + প্লেন ভাড়া ১ লক্ষ। অর্থাৎ আপনার জমানো ৫ লক্ষ টাকা দেখালেই হবে। এই হিসাব এক জনের জন্য ,,,পরিবার হলে জনপ্রতি ৫ লক্ষ।কাহিনী এখানেই শেষ না। আপনার আয় ব্যয় এর হিসাব সন্দেহজনক হলে হবে না। একবারে একাউন্টে ১০ লক্ষ টাকা জমা দিয়ে সেই কাগজ দিয়ে ভিসা হবে না। মনেকরুন আপনি দেখালেন আপনি প্রতিমাসে ১ লক্ষ টাকা বেতন পান এবং ৫০ হাজার টাকা জমান। এভাবে ১ বছরে ৬ লক্ষ টাকা জমিয়েছেন। তাহলে সেটি গ্রহণযোগ্য।

৬. ভ্রমন বীমা বা ট্রাভেল ইন্সুরেন্স থাকতে হবে। ট্র্যাভেল ইন্সুরেন্স কমপক্ষে ৩০ হাজার ইউরো এর হতে হবে। এটি সকল এমার্জেন্সি মেডিক্যাল এর জন্য ব্যবহার যোগ্য হতে হবে এবং এটি ইউরোপের সকল দেশে কার্যকর হতে হবে। তবে জটিল মনে হলেও ব্যাপারটি আসলে সহজ। ঢাকাস্থ সুইডেন এম্বেসীতে একটি তালিকা আছে , সেই তালিকা র মধ্যে থেকে যে কোনো একটি কোম্পানি থেকে ভ্রমন বীমা বা ট্রাভেল ইন্সুরেন্স কিনতে পারেন। তবে কোনো মতেই তালিকার বাহিরের কোনো কোম্পানি থেকে ইন্সুরেন্স কেনা যাবে না।https://www.vfsglobal.se/Bangladesh/pdf/Embassy_approved_Insurance_company_list_270814.pdf

৭. পরিবার নিয়ে বেড়াতে যেতে চাইলে ,,, কাবিননামা বা ম্যারেজ সার্টিফিকেট সাথে দিতে পারেন। বাচ্চা থাকলে বাচ্চার বার্থ সার্টিফিকেট।

৮. চাকুরিজীবি হলে আপনি এনওসি, অফিস আইডি, স্যালারি সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেন।

৯. ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স , টিন ইত্যাদি জমা দিতে পারেন।

১০. হোটেল বুকিং এবং ফ্লাইট রিজার্ভেশন কপি জমা দিতে পারেন। সাথে পুরো ভ্রমনের ইট্যানারি বা প্ল্যান জমা দিতে পারেন।

১১. সদ্য তোলা ২ কপি রঙ্গিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি (৩৫ মি.মি. x ৪৫ মি.মি.)

১২. ছাত্র হলে ছাত্রের প্রমান এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে ছুটির অনুমতি পত্র। তবে ঈদ বা অন্যান্য ছুটির সময়ে গেলে এই অনুমতি পত্র লাগবে না।

১৩. এটি মূল কথা : আপনাকে ভিসা না দেবার জন্য হাজারটা কারন থাকতে পারে , তবে আপনাকে ট্যুরিস্ট ভিসা দেবার জন্য শুধু একটি কারন দরকার , সেটি হলো বেড়ানো শেষে আপনি আবার দেশে ফিরে আসবেন ,,এই গ্যারান্টী। অর্থাৎ ভিসা অফিসার যদি নিশ্চিত হয় যে ,,,, বেড়ানো শেষে আপনি আবার দেশে ফিরে আসবেন ,,,,,তবে নিশ্চিত থাকুন আপনি ভিসা পাবেন।

১৪. ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন করার পর আপনি সর্বোচ্চ ১ মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত পেয়ে যাবেন। এছাড়া ভি এফ এস এর মাধ্যমে আবেদন করলে ,,,আবেদন ট্র্যাক করে দেখতে পারবেন। https://www.vfsglobal.se/Bangladesh/track_application.html

১৫. কিছু ক্ষেত্রে আপনাকে ভাইবা দিতে হতে পারে। সুইডেনের ভাইবা সাধারনত টেলিফোনেই হয়। তবে খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে অফিসে গিয়ে ভাইবা দিতে হয়। সবার ভাইবা দিতে হয় না।

১৬. অনেকে বলে আগে অনেকগুলি দেশ বেড়ানোর ইতিহাস না থাকলে সুইডেনের / সানজেন ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়া সম্ভব না। এই কথাটি পুরোপুরি সত্য না। একদম ফ্রেশ পাসপোর্টেও আপনি এই ট্যুরিস্ট ভিসা পেতে পারেন। তবে আরো বোঝার জন্য ১৩ নং পয়েন্ট আবার পড়ুন।

১৭. অতীতে ‘পরিবার সম্পর্কীয় বিবরণ ফর্ম’ (Family Appendix for Applicants) জমা দেয়া বাধ্যতামূলক ছিল। বর্তমানে মনে হয় লাগে না। নিশ্চিত না।

১৮. ভিসা পেলে আপনি দুবাই /দোহা বা ইস্তাম্বুল দিয়ে সুইডেনে যেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে এই ভ্রমনের জন্য আলাদা করে কোনো ট্রানজিট ভিসা নিতে হবে না। তবে দুবাই /দোহা বা ইস্তাম্বুল থাকতে বা ঘুরতে চাইলে আলাদা করে ভিসা লাগবেই।

১৯. সুইডেনের ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে সুইডেনে প্রথমে প্রবেশ করলে কোনো সমস্যা নেই। তবে আপনি যদি প্রথমেই প্যারিস বা রোম এ যেতে চান ,,তবে প্যারিস বা রোম এয়ারপোর্টে ঝামেলা করতে পারে। তাই আগে থেকেই নিশ্চিত হয়ে যাবেন।

২০. সাধারনত ট্যুরিস্ট ভিসা এক্সটেন বা বাড়ানো যায় না। আর এটি ভালো নজরে দেখাও হয় না। তবে অসূস্থতা জনিত কিছু হলে ভিন্ন কথা ,,,নতুবা ট্যুরিস্ট ভিসা এক্সটেন বা বাড়ানোর আবেদন করলে ,,সেটি ভবিষৎ ভিসা পেতে ঝামেলা করতে পারে। তাই এই ঝামেলাতে না যাওয়াই ভালো।

২১. যদি আপনি সুইডেনে থাকা আপনার পরিচিত কারো কাছে বেড়াতে যেতে চান তবে অতিরিক্ত এই ফরমটি জমা দিতে হবে। https://www.migrationsverket.se/download/18.5e83388f141c129ba631285c/1540202114084/Inbjudan_241011_en.pdf

২২. যদি আপনি ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে অথবা কনফারেন্সে যেতে চান তবে সুইডেনের ব্যবসা প্রতিষ্টান অথবা কনফারেন্সে আয়োজন কারীদের কাছ থেকে একটি ইনভাইটেশন পেপার জমা দিতে হবে।এম্বেসী থেকে দেয়া চেক লিস্ট

https://www.vfsglobal.se/Bangladesh/pdf/Tourist-Visa-Checklist-1.pdf

আমার মতে ২ টি বিশেষ সতর্কতা। আপনাকে ভিসা না দিলে আপিল করবেন না। কারন এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই ভিসা না দিলে কোনো সমস্যা নেই ,,,কিছুদিন পরে আবার ভিসা আবেদন করুন। তবে আপিল করবেন না। আর ভুলেও মিথ্যা তথ্য দিবেন না। কারন সুইডেন এম্বেসী সকল তথ্য সুন্দর করে জমা রাখে। ফলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ধরা খেলে ভবিষ্যতে ভিসা আর নাও পেতে পারেন। অনেক সময় এম্বেসী গোপনে ফাইলে লিখে রাখে যে ,,,সামনের ৫ বা ১০ বছর আর একে ভিসা দেবার দরকার নাই। এরকম হলে বিপদ।শেষ কথা : নভেম্বর থেকে মার্চ মাস সুইডেনে বেড়াতে আসার দরকার নেই। কারন ঠান্ডার “ইয়েতে” “ইয়ে” যাবে। তাই মে থেকে আগস্ট মাস সুইডেনে বেড়ানোর উপযুক্ত সময়।

এই লেখা কোনো তথ্যের গ্যারান্টি বহন করে না , আইন সর্বদা পরিবর্তনশীল। ১০০% নিশ্চিত ও সঠিক আইন জানতে দেখুন
https://www.migrationsverket.se/English/Private-individuals/Visiting-Sweden.html

সকল বিষয়